
উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে বদলি করা হয়েছে। ১৩ আগস্টের এক আদেশে তাঁকে বদলি করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর তিনি উখিয়ার কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারিতে উখিয়ায় যোগ দেওয়ার পর ই-নামজারি, জমা খারিজ ও খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা কার্যক্রমে গতি আনতে উদ্যোগ নেন শারমিন সুলতানা। ভূমি-সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন তিনি। ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রমও তদারকি করেন।
দায়িত্ব পালনকালে সরকারি খাসজমি দখল, যানজট ও ভেজালবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেন তিনি।
২১ সেপ্টেম্বর উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে কয়েকজন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের কয়েকজন আগের তুলনায় দ্রুত সেবা পাওয়ার কথা জানান। একজন বলেন, “বিগত বছরগুলোতে নামজারি করতে এসে মাসের পর মাস ঘুরতে হতো। চলতি বছরে কাগজপত্র জমা দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।”
আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, “খতিয়ান সংশোধনে বিগত বছরগুলোতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এবার কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়েছে।”
শারমিন সুলতানা বলেন, “কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা এবং উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার্থে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমার দায়িত্ব পালনকালে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষের, সরকারের এবং ভূমি কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কাজে কোনো ধরনের আপস করিনি আমার দায়িত্ব পালনকালে।”
৪০তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা বরিশাল জেলার শারমিন সুলতানা উখিয়ায় যোগ দেওয়ার আগে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উখিয়া থানা গঠিত হয় ১৯২৬ সালে। ১৯৮৩ সালে উখিয়াকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। উপজেলা হওয়ার পর শারমিন সুলতানা উখিয়ার দ্বিতীয় নারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন


পাঠকের মতামত